রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো রুশ গোয়েন্দা তৎপরতা ও সামরিক প্রযুক্তি সংগ্রহে বাধা দিতে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও, জাপানকে ঘিরে নতুন একটি চিত্র সামনে এসেছে। একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জাপানের উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প এবং তুলনামূলক দুর্বল গুপ্তচরবৃত্তিবিরোধী আইনের সুযোগ নিয়ে রাশিয়ার গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক দেশটিতে সক্রিয় রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ-এর একটি গোপন ইউনিট, ‘২০তম অধিদপ্তর’, কূটনৈতিক ও ব্যবসায়িক পরিচয়ের আড়ালে উন্নত প্রযুক্তি সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে রাশিয়ায় পাঠানোর চেষ্টা করছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, টোকিও থেকে পরিচালিত এই নেটওয়ার্কে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা অ্যারোফ্লোটের আড়ালও ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার ব্যবহৃত বহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে জাপানি প্রযুক্তির যন্ত্রাংশ পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক একাধিক হামলার ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণেও এমন উপাদান শনাক্ত হয়েছে বলে কিয়েভের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে এসব যন্ত্রাংশ সরাসরি জাপান থেকে রাশিয়ায় গেছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে সেগুলো পুনরায় রপ্তানি হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জাপানের কাছে ইউক্রেন একাধিকবার কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরেছে এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছে। জাপান সরকার জানিয়েছে, তারা পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছে এবং সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানির ওপর নজরদারি জোরদার করেছে।
এদিকে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, টোকিওভিত্তিক কিছু লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বৈধ পণ্যের পাশাপাশি সংবেদনশীল প্রযুক্তি পাচারের আশঙ্কার কথাও পশ্চিমা গোয়েন্দারা জাপানকে জানিয়েছেন। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা কেবল অনুমোদিত পণ্য পরিবহন করে এবং কোনো নিষিদ্ধ লেনদেনে জড়িত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে শুধু সরাসরি রপ্তানি নয়, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে প্রযুক্তি স্থানান্তরের পথও কঠোরভাবে নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জাপানের গোয়েন্দা সক্ষমতা ও আইনগত কাঠামো আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।