বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা দিলদার আজও দর্শকের কাছে সমান প্রিয়। অসংখ্য চলচ্চিত্রে তাঁর অনবদ্য অভিনয় যেমন মানুষকে হাসিয়েছে, তেমনি একবার নায়ক হয়েও তিনি দেখিয়েছিলেন নিজের অভিনয়ক্ষমতার ভিন্ন এক দিক। তবে সেই পথ মোটেও সহজ ছিল না।
দিলদারের মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনায় আসে পরিচালক তোজাম্মেল হক বকুল নির্মিত ‘আব্দুল্লাহ’ সিনেমার গল্প। ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়ে প্রথমে রাজি হননি দিলদার। তাঁর আশঙ্কা ছিল, কৌতুক অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত পরিচয়ের বাইরে নায়ক হিসেবে দর্শক তাঁকে গ্রহণ নাও করতে পারেন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে তিনি নির্মাতাকে মজার ছলে বলেছিলেন, “আপনি কি আমার পেটে লাথি দিতে আসছেন?”
পরিচালকের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত সম্মতি দিলেও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয় নায়িকা নির্বাচন নিয়ে। সে সময়ের একাধিক জনপ্রিয় অভিনেত্রীর কাছে প্রস্তাব গেলেও তাঁরা দিলদারের বিপরীতে অভিনয়ে আগ্রহ দেখাননি। পরে অভিনেত্রী নূতন ছবিটিতে অভিনয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করেন।
নূতন পরে এক সাক্ষাৎকারে জানান, ছবিতে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তাঁকে বিভিন্নভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, কৌতুক অভিনেতাকে নায়ক করে নির্মিত ছবি দর্শক গ্রহণ করবে না। কিন্তু তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
শুটিং শেষ হওয়ার পরও সংশয় কাটেনি নির্মাতা ও প্রযোজকের। এমনকি প্রেক্ষাগৃহের মালিকদের কাছ থেকেও প্রশ্ন উঠেছিল, দিলদারকে নায়ক করে সিনেমা নির্মাণের ঝুঁকি কেন নেওয়া হলো।
তবে মুক্তির পর সব হিসাব পাল্টে যায়। প্রথম দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ব্যাপক সাড়া পায় ‘আব্দুল্লাহ’। মুখে মুখে ছবিটির সুনাম ছড়িয়ে পড়ে এবং সে সময়ের হিসাবে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ব্যবসা করে এটি, যা ছিল বড় ধরনের বাণিজ্যিক সাফল্য।
দিলদারের অভিনয়জীবনে ‘আব্দুল্লাহ’ কেবল একটি সফল চলচ্চিত্র নয়; এটি ছিল প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অর্জিত এক অনন্য সাফল্যের গল্প। যে অভিনেতাকে নায়ক হিসেবে অনেকেই গ্রহণ করতে চাননি, শেষ পর্যন্ত তিনিই দর্শকের ভালোবাসায় বক্স অফিসে স্মরণীয় ইতিহাস গড়ে দেন।