দেশের বাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির মুখ দেখেছে স্বর্ণ। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সব ধরনের স্বর্ণের নতুন দাম ঘোষণা করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাফে ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকায়। নতুন এ মূল্য আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে খাঁটি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইনভেদে মজুরি যুক্ত হবে। একই সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পুনঃক্রয়ের ক্ষেত্রেও আগের নীতিমালা বহাল থাকবে।
এর আগে সর্বশেষ গত ৩১ জুলাই স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশে ৯৮ দফা স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮ বার দাম বেড়েছে, ৪৯ বার কমেছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় হয়েছিল; যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২৯ বার হ্রাস পেয়েছিল।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়িয়েছে বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ২৯২ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩৩ টাকা।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৬১ দফা রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ বার দাম বেড়েছে এবং ৩০ বার কমেছে।