30.6 C
Dhaka
রবিবার, আগস্ট ৯, ২০২৬

মেসি-রোনালদোকে ঘিরে হামলার হুমকি, ফাঁস নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

জনপ্রিয়

বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বিশ্বকাপ চলাকালে খেলোয়াড়, রেফারি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক গুরুতর আশঙ্কার তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের একটি ফাঁস হওয়া নিরাপত্তা নথিতে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’ ও স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘ইনফরমাসিওন’-এর প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ছিলেন মেসি ও আর্জেন্টিনা দল। জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে ডালাস বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি ফোন করে স্টেডিয়ামে হামলার হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে গ্রেনেড ও এআর-১৫ রাইফেল নিয়ে হামলা চালাবেন এবং সরাসরি মেসিকে হত্যার হুমকিও দেন।
মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচকে ঘিরেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক সন্দেহভাজন মেসিকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলার হুমকি দেন। একই সময়ে স্টেডিয়ামের ডাস্টবিনে বোমা রাখা হয়েছে—এমন একটি ফোন পাওয়ার পর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়।
রোনালদোকেও ঘিরে ছিল নিরাপত্তা শঙ্কা। ফিফার এক কর্মীর বরাতে নথিতে বলা হয়েছে, এক ব্যক্তি রোনালদোর হোটেলের অবস্থান ও বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছিলেন। পরে এক ভক্ত পুলিশের নজর এড়িয়ে তার হোটেলের লিফটে ওঠার চেষ্টা করেন। জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি অবশ্য জানান, তার উদ্দেশ্য ছিল শুধু রোনালদোর সঙ্গে সেলফি তোলা।
শুধু খেলোয়াড় নয়, হুমকির মুখে পড়েছিলেন ম্যাচ কর্মকর্তারাও। আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ সমর্থকদের কাছ থেকে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া ল্যাটেক্সিয়ার হোয়াটসঅ্যাপে হাজার হাজার হুমকিবার্তা পান বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) উইলি দেলাজোদকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
পারফরম্যান্সকে কেন্দ্র করেও কয়েকজন খেলোয়াড়কে মৃত্যুর হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সুযোগ নষ্ট করার পর নরওয়ের আলেকজান্ডার সরলথ এবং কলম্বিয়ার ঝন জামিনতন কাম্পাজের বিরুদ্ধে হুমকি আসে। পরিস্থিতির কারণে কাম্পাজকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে জাতীয় দলের সঙ্গে দেশে ফিরতেও অনীহা প্রকাশ করতে হয়েছিল।
এই ঘটনা ১৯৯৪ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের পর কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ স্মৃতিও সামনে এনে দেয়।
নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বকাপের বিভিন্ন ভেন্যু ও মিডিয়া সেন্টারে নেওয়া হয়েছিল কঠোর ব্যবস্থা। কোথাও তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী, স্নাইপার-প্রতিরোধী ব্যবস্থা এবং ড্রোন ঠেকাতে নো-ফ্লাই জোন চালু করা হয়। একাধিক হুমকির কারণে পুরো আসরটিকে ইতিহাসের অন্যতম কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত বিশ্বকাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।
- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

লাপাত্তা’ দিয়ে অভিনয়ে ফিরছেন নুসরাত ফারিয়া

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও অভিনয়ের ব্যস্ততায় ফিরছেন নুসরাত ফারিয়া। মেহেদী হাসান হৃদয়ের পরিচালনায় ওয়েব ফিল্ম ‘লাপাত্তা’র কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রে...