31.1 C
Dhaka
সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২৬

মোবাইল না দেখলে খাবারই খায় না শিশু? অভ্যাস বদলাবেন যেভাবে

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

অনেক অভিভাবকই অভিযোগ করেন, মোবাইল ফোন না দিলে সন্তান খাবার খেতে চায় না। খাওয়ানোর সময় শিশুকে শান্ত রাখতে শুরুতে ফোন বা টিভি দেখানোর অভ্যাস করানো হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই অভ্যাস ছাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ছোটবেলা থেকেই খাবারের সঙ্গে স্ক্রিনের এই নির্ভরতা কমানো জরুরি।
শিশুরা মোবাইল দেখে খেতে পছন্দ করে কেন?
খাওয়ার সময় মোবাইলের প্রতি শিশুদের আকর্ষণের পেছনে রয়েছে এর উজ্জ্বল ছবি, শব্দ এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল দৃশ্য। এসব শিশুর মনোযোগ সহজেই খাবার থেকে সরিয়ে পর্দায় আটকে রাখে। ফলে খাবার নিয়ে বায়না না করে শিশু খেয়ে নেয়।
তবে এর একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে। মোবাইলের দিকে তাকিয়ে খাওয়ার সময় শিশু কখন খাচ্ছে, কতটা খাচ্ছে কিংবা তার পেট ভরে গেছে কি না—এসব স্বাভাবিক সংকেত বুঝতে শেখে না। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চলতে থাকলে ক্ষুধা ও তৃপ্তির স্বাভাবিক অনুভূতিতে প্রভাব পড়তে পারে। খাবারের প্রতি আগ্রহ কমার পাশাপাশি খাওয়ার সময় মোবাইলের ওপর নির্ভরশীলতাও তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা, খাবারের স্বাদ-গন্ধ ও গঠন অনুভব করা এবং খাবারকে ঘিরে সামাজিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও কমে যায়।
হঠাৎ মোবাইল বন্ধ নয়, কমাতে হবে ধীরে
মোবাইল দেখিয়ে খাওয়ানোর অভ্যাস একদিনে বদলানো কঠিন। ভারতের পুষ্টিবিদ ঋজুতা দিবেকের পরামর্শ অনুযায়ী, হঠাৎ করে ফোন বন্ধ করে দিলে শিশুর অস্বস্তি বা খাবার না খাওয়ার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। তাই ধীরে ধীরে স্ক্রিনের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা ভালো।
এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় অনুসরণ করতে পারেন—
১. খাবারের নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন
মধ্যাহ্নভোজ ও রাতের খাবারের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করুন। প্রতিদিন একই সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হলে ধীরে ধীরে শিশুর শরীরে স্বাভাবিক ক্ষুধার একটি চক্র গড়ে উঠতে পারে। ফলে ফোন ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ে খাবারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে।
২. পরিবারের সঙ্গে বসে খাওয়ান
শিশুকে একা খাওয়ানোর বদলে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বসিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন। খাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্প করা বা কথা বলার সুযোগ পেলে শিশুর মনোযোগ ধীরে ধীরে ফোন থেকে সরে আসবে।

৩. ধীরে ও সচেতনভাবে খেতে শেখান
তাড়াহুড়ো করে খাবার শেষ না করিয়ে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন। মনস্তত্ত্বে যাকে ‘মাইন্ডফুল ইটিং’ বা সচেতনভাবে খাওয়া বলা হয়, তার মাধ্যমে শিশু খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও গঠন সম্পর্কে সচেতন হতে শেখে। এতে খাবারের প্রতি মনোযোগ বাড়তে পারে এবং মোবাইলের প্রয়োজনীয়তাও ধীরে ধীরে কমতে পারে।

ছোট সাফল্যকেও গুরুত্ব দিন

মোবাইল ছাড়াই শিশু একদিন খাবার খেলে সেটিকে ছোট বিষয় হিসেবে দেখবেন না। বরং এটিই হতে পারে অভ্যাস পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ শুরু। প্রতিদিন সফল হওয়া জরুরি নয়; ধীরে ধীরে স্ক্রিন ছাড়া খাওয়ার সময় বাড়ানোর চেষ্টা করুন।

মনে রাখতে হবে, অভ্যাস বদলাতে সময় লাগে। তাই শিশুকে বকাঝকা বা জোর না করে ধৈর্যের সঙ্গে খাবারের সময়টিকে আনন্দদায়ক করে তুলুন। পরিবারের সবাই যদি একই নিয়ম মেনে চলেন, তাহলে শিশুর জন্য মোবাইল ছাড়া খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের...