33.9 C
Dhaka
মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬

ট্রাম্প প্রশাসনে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল

জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। একই সময়ে আরও কয়েক হাজার বিদেশি নাগরিকের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ও অভিবাসনের সুযোগ বাতিল করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত এক তথ্যবিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়।
দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, ভিসার শর্ত ভঙ্গ, জালিয়াতি, সহিংসতায় উসকানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হওয়ার মতো বিভিন্ন কারণে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বৈধ ভিসাধারীদেরও নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও ভিসার শর্ত মেনে চলছেন কি না এবং তাঁদের উপস্থিতি দেশটির নাগরিকদের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
ভিসা বাতিলের অন্যতম কারণ হিসেবে হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের কথা উল্লেখ করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। কিছু ঘটনায় ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, অপহরণ, মানব পাচার এবং শিশু যৌন নিপীড়নের উপকরণ রাখার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
এ ছাড়া উত্তর আফ্রিকার একটি মার্কিন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করা ১০০টির বেশি দম্পতির ভিসা বাতিল করেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব দম্পতির উদ্দেশ্য ছিল সন্তানের জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ নেওয়া।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত বছর রক্ষণশীল অধিকারকর্মী চার্লি কার্ক হত্যার ঘটনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত এবং তাঁদের কর্মকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত থাকবে। দপ্তরের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কোনো অধিকার নয়; এটি একটি সুযোগ। যারা এই সুযোগের অপব্যবহার করবে, তাদের ভিসা বাতিলের জন্য বিদ্যমান সব আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, তারা এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। তখন সেটিকে রেকর্ডসংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করেছে। আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি যাচাইয়ের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
তবে এ উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর বাড়তি নজরদারি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে এবং অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত নজরদারির সুযোগ বাড়াতে পারে।
- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

বিদেশি বিনিয়োগে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী...