কারাগারে ফেরার আগে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল। একই সঙ্গে অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে ইসলামি আদর্শ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে গাজীপুর জেলা গারদখানা থেকে প্রিজন ভ্যানে করে তাকে কারাগারে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় পুলিশের পাহারায় হাতকড়া পরা অবস্থায় উপস্থিত লোকজনের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলেন মামুন মণ্ডল। পরে তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে মামুন মণ্ডলকে বলতে শোনা যায়, তিনি দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইছেন এবং ওই দিন থেকে আওয়ামী লীগের সব পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। ভবিষ্যতে আর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত না হয়ে ইসলামি আদর্শ অনুযায়ী নিজেকে গড়ে তুলতে চান বলেও জানান তিনি। এ জন্য সবার কাছে দোয়া চান।
এর আগে বুধবার সকালে মামুন মণ্ডলকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে বিকেলে তাকে গাজীপুর জেলা গারদখানা থেকে পুনরায় কারাগারে নেওয়া হচ্ছিল। সেই সময়ই তিনি দলীয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি ঢাকার উত্তরার রূপায়ণ সিটি এলাকা থেকে আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মামুন মণ্ডল। ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তিনি ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে সাংগঠনিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।
রাজনীতির পাশাপাশি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে টানা দুইবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। এছাড়া আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর কারাগারে ফেরার মুহূর্তে প্রকাশ্যে দলটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিলেন মামুন মণ্ডল। একই সঙ্গে অতীতের জন্য ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে ইসলামি আদর্শ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।