28.7 C
Dhaka
শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬

গণপূর্তের প্রকৌশলী বদরুলকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ

জনপ্রিয়
- Advertisement -
Your Ads Here
100x100

গণপূর্ত অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ, সিন্ডিকেট গঠন, পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে চাপ প্রয়োগ এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) তদন্তের আবেদন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, গণপূর্ত অধিদফতরের অভ্যন্তরে অভিযোগ দেওয়ার পরও বিষয়টির কার্যকর তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে অভিযোগগুলোর স্বাধীন তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে দুদকের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও বদরুল আলম খানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে বদরুল আলম খান বিভিন্ন সময়ে গণপূর্ত অধিদফতরে প্রভাব বিস্তার করেছেন। তার বিরুদ্ধে বদলি-পদায়ন এবং সরকারি কাজের দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

কুমিল্লার কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, গত বছরের ৫ আগস্টের পর বদরুল আলম খান বিভিন্ন এলাকার ঠিকাদারদের নিয়ে একটি প্রভাবশালী গ্রুপ তৈরি করেন। তাদের দাবি, ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লার বিভিন্ন গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।

কয়েকটি প্রতিবেদনে ‘আসিফ’ নামে এক ঠিকাদারের সঙ্গে বদরুল আলম খানের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকার অভিযোগও এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে ওই ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হতো। একই ধরনের অভিযোগ মিরপুরের কয়েকটি সরকারি নির্মাণকাজের দরপত্র নিয়েও করা হয়েছে।

কুমিল্লার একটি ই/এম টেন্ডারে কথিত ভুয়া সনদ ব্যবহারকারী একজন ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে প্রকৌশলীদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

টেন্ডার ও প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন

মিরপুরের পাইকপাড়া আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আরবরিকালচার বা ল্যান্ডস্কেপিং কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কাজ অন্য বিভাগের আওতাভুক্ত হওয়ার পরও তা মিরপুর গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে টেন্ডার করা হয়।

এ ছাড়া পুলিশের ১০৭টি থানা নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ভাষানটেক থানার কাজ নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

বদলি-পদায়ন নিয়েও অভিযোগ

বদরুল আলম খানের বিরুদ্ধে গণপূর্ত অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নে অনানুষ্ঠানিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে তিনি প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছেন।

২০২৫ সালের শেষ দিকে দুদকে দেওয়া একটি অভিযোগে বদলি-পদায়ন ও বিভিন্ন কাজ থেকে কমিশন নেওয়ার বিষয়ে আরও গুরুতর আর্থিক অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগ অভিযোগপত্রে উত্থাপিত দাবি—এগুলোকে প্রমাণিত দুর্নীতি হিসেবে বিবেচনা করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও যাচাই প্রয়োজন।

সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বদরুল আলম খানের বক্তব্যও প্রকাশিত হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে তিনি বলেন, একটি মহল তাকে প্রধান প্রকৌশলীর কাছ থেকে দূরে সরাতে সক্রিয় রয়েছে এবং তিনি অধিদফতরের স্বার্থে কাজ করছেন। সিন্ডিকেট করে ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ কিংবা প্রকৌশলীদের নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ দিতে বাধ্য করার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে এগুলোকে অপপ্রচার বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে, সরকারি তথ্যভান্ডারে বর্তমানে মোহাম্মদ বদরুল আলম খানকে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য এবং বিভিন্ন নথিতে উত্থাপিত দাবিগুলো সামনে রেখে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টেন্ডার নথি, প্রকৌশলীদের বদলি-পদায়নের আদেশ, প্রকল্পের কার্যাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

বদ বদরুল খান ভেঙে হল খান খান

নিজস্ব প্রতিবেদক : গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানকে ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি-পদায়নে প্রভাব বিস্তার এবং...