| Your Ads Here 100x100 |
|---|
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের প্রচলিত পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার পরিবর্তে সরাসরি নিয়োগের লক্ষ্যে পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক—তিন ধাপে প্রার্থীদের মূল্যায়ন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
নতুন পদ্ধতিতে নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আগামী ডিসেম্বরে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে এনটিআরসিএ। তবে পরীক্ষার তারিখ, পদ্ধতি, সিলেবাস ও নম্বর বণ্টন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এসব বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধনের পর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে। আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
সম্প্রতি এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা সামনে রেখে নিয়োগপ্রক্রিয়া ও পরীক্ষার কাঠামোতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে তিন ধাপে মোট ২২০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জন্য ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সর্বশেষ ধাপে ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
এভাবে তিন ধাপের মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রার্থীদের যোগ্যতা, মেধা ও দক্ষতা যাচাই করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করার পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ।
প্রস্তাবিত নিয়মে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হবে এক ঘণ্টার। এতে বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পদ্ধতিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি বিষয়ে ২৫ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য এক নম্বর দেওয়া হবে। তবে ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা যাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে প্রার্থীদের কমপক্ষে ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।
প্রথম ধাপে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা পরবর্তী সময়ে তিন ঘণ্টার ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। মৌখিক পরীক্ষায় ২০ নম্বর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে প্রস্তাবিত এই কাঠামো এখনো চূড়ান্ত নয়। নতুন পদ্ধতি কার্যকর করতে প্রথমে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধন করতে হবে। বিধিমালা সংশোধন ও অনুমোদনের পর পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ কাঠামো, সিলেবাস, নম্বর বণ্টন এবং অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত করা হবে।
নতুন উদ্যোগ কার্যকর হলে শিক্ষক নিবন্ধন ও নিয়োগের বর্তমান ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে এনটিআরসিএর অধীনে নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা যাচাই করা হয়। নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরবর্তী সময়ে পৃথক নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।
কিন্তু প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থায় নিবন্ধন পরীক্ষা এবং পরবর্তী নিয়োগপ্রক্রিয়ার পরিবর্তে সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে প্রচলিত ধারাবাহিকতায় ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা আয়োজন না করে নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।
এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা চলমান রয়েছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর এ পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।
এ কারণে ডিসেম্বর মাসকে সামনে রেখে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না, তা নির্ভর করছে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার ওপর।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর পরীক্ষার তারিখ, আবেদনপ্রক্রিয়া, সিলেবাস ও অন্যান্য বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল এনটিআরসিএ। ২০২৪ সালের মার্চে ওই পরীক্ষার প্রিলিমিনারি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দীর্ঘ সময় নতুন শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।
এখন প্রচলিত নিবন্ধন পরীক্ষার পরিবর্তে সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষার নতুন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় শিক্ষক নিয়োগের পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে। তবে নতুন পদ্ধতি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষার সময়সূচি ও নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

