| Your Ads Here 100x100 |
|---|
ওমান উপসাগরে আগুন লাগা একটি কার্গো জাহাজ থেকে ২২ জন ক্রুকে উদ্ধার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ন্যাশনাল গার্ড। উদ্ধার হওয়া ক্রুদের সবাই আরবীয় নাগরিক। তাদের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল গার্ড।
রোববার (৮ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ন্যাশনাল গার্ড।
বিবৃতিতে বলা হয়, কার্গো জাহাজটির ক্রুরা আগুন লাগার খবর জানানোর পর উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। খবর পাওয়ার পর ন্যাশনাল গার্ডের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করে। পরে দ্রুত অভিযান চালিয়ে জাহাজে থাকা ২২ জন ক্রুকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা ক্রুদের সবাই সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল গার্ড। উদ্ধারের পর তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে কার্গো জাহাজটিতে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ন্যাশনাল গার্ড। জাহাজটির নাম, মালামালের ধরন এবং আগুন লাগার ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়েও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে আমিরাতের এই উদ্ধার অভিযানের আগে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজ মাইনে আঘাত পেয়েছে। এরপর জাহাজ দুটিতে আগুন ধরে যায়।
ইরানের বিপ্লবী গার্ডের দাবি, জাহাজ দুটি তাদের অনুমোদিত নৌপথের বাইরে চলাচলের চেষ্টা করছিল। এ সময় জাহাজগুলোর নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ ছিল। ফলে সেগুলো নির্ধারিত পথ থেকে সরে যায়।
বিপ্লবী গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, দুটি জাহাজের একটি হরমুজ প্রণালির পূর্ব দিকে এবং অন্যটি প্রণালির ভেতরে মাইনে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তবে জাহাজ দুটির পরিচয় ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ মাইনে আঘাত পাওয়ার একাধিক ঘটনার কথা জানিয়ে আসছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। এসব ঘটনার সঙ্গে জাহাজগুলোর নির্ধারিত নৌপথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করছে তারা।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে জাহাজে হামলা, অগ্নিকাণ্ড কিংবা নৌপথে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

