রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে হঠাৎ থমকে দাঁড়ায় পথচারীরা। কালো পোশাকে মোড়ানো নারী-পুরুষদের এক নীরব শোকযাত্রা এগিয়ে যেতে থাকে ধীর পায়ে। কারও বুকে সাদা কাফনে জড়ানো শিশুর প্রতীকী মরদেহ, কারও চোখে গভীর শোক আর নীরব প্রতিবাদ। চারপাশে ভেসে আসে প্রশ্ন—“কে বাঁচাবে শিশুদের?”, “কার কাছে চাইব জবাব?”
হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় রাষ্ট্র ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার জবাবদিহি দাবি করে এই প্রতীকী প্রতিবাদ আয়োজন করে নাট্যসংগঠন প্রাচ্যনাট।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর কাঁটাবন মোড়ে অবস্থিত কনকর্ড এম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স-এর সামনে থেকে শুরু হয় ব্যতিক্রমী প্রতিবাদী পরিবেশনা ‘শিশুমর্গ’। পরে এই শোকমিছিল শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর-এর সামনে গিয়ে শেষ হয়।
প্রতীকী এ পরিবেশনায় নাট্যকর্মীরা তুলে ধরেন সন্তান হারানো বাবা-মায়ের অসহনীয় বেদনার চিত্র। কেউ কাফনে মোড়ানো শিশুর প্রতীকী দেহ বুকের সঙ্গে চেপে ধরেছেন, কেউবা মাথা নিচু করে নীরবে হাঁটছেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ফুটে ওঠে হাসপাতাল থেকে সন্তানের মরদেহ নিয়ে বের হওয়া স্বজনদের অসহায়তার দৃশ্য।
আয়োজন সম্পর্কে প্রাচ্যনাটের প্রধান আজাদ আবুল কালাম বলেন, চিকিৎসাব্যবস্থার ভয়াবহ অবহেলার কারণেই এত শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই সাংস্কৃতিককর্মীরা এই প্রতিবাদে নেমেছেন।
এদিকে শিশু হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার সেগুনবাগিচায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা। সেখানে বক্তারা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।