ঢাকার একটি আদালতে ২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় মূল আসামির পরিবর্তে অন্য একজন নারীকে আত্মসমর্পণ করিয়ে জামিন নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালতকে বিভ্রান্ত করা, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার আসামিরা হলেন— মূল আসামি নাসরীন সিকদার, তার হয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে আসা মনোয়ারা বেগম (৫০) এবং আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসেন। এছাড়া ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার দায়ের করেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিয়া মো. ইব্রাহিম খলিল অপু।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ-৪ আদালতে এ ঘটনা ঘটে। চেক ডিজঅনার মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে বিচারকের সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী নিজের পরিচয় এবং মামলার বিষয়ে সন্তোষজনক তথ্য দিতে না পারায় আদালতের নথি ও পরিচয়পত্র যাচাই করা হয়। এতে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি প্রকৃত আসামি নন।
ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসেন আদালত কক্ষ ত্যাগ করে চলে যান।
আদালতে মনোয়ারা বেগম দাবি করেন, তিনি বিভিন্ন বাসাবাড়িতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করেন। এক আইনজীবীর কথায় আদালতে এসেছিলেন এবং এটি যে অপরাধ, সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা ছিল না।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে মনোয়ারা বেগমকে মূল আসামির পরিবর্তে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসেন ভুয়া ওকালতনামা প্রস্তুত করে আদালতে জমা দেন, যদিও মামলাটি পরিচালনার জন্য তার কোনো বৈধ আইনগত কর্তৃত্ব ছিল না।
মূল মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদী নিবেদিতা আহমেদ তুলির সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের সূত্রে ফ্ল্যাট কেনার জন্য নাসরীন সিকদার ২৯ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। পরে সেই অর্থ পরিশোধে দেওয়া ব্র্যাক ব্যাংকের একটি চেক পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ডিজঅনার হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
আদালতের মতে, মূল আসামির পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে হাজির করে জামিন নেওয়ার চেষ্টা দণ্ডবিধির প্রতারণা, পরিচয় জালিয়াতি, জাল দলিল তৈরি এবং অপরাধমূলক যোগসাজশসংক্রান্ত একাধিক ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
পরে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭৬ ধারা অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।