প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এটি কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং দেশের অর্থনীতিকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য অর্থনীতিকে সীমিত গোষ্ঠীর প্রভাব থেকে বের করে জনগণের অংশগ্রহণমূলক কাঠামোয় রূপান্তর করা।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার অতীতের সংকট নিয়ে নয়, ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েই এগোতে চায়। দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে একটি কার্যকর ও টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলাই সরকারের অগ্রাধিকার।
তিনি জানান, বাজেট ঘোষণার দিন থেকেই ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক ও কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে বাজেটকে কেন্দ্র করে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হয়নি এবং সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও অপ্রয়োজনীয় বৃহৎ প্রকল্পের কারণে দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তবে সরকার সেই পরিস্থিতিকে অজুহাত না বানিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে অর্থনীতি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আন্তর্জাতিকভাবে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে।
সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে উন্নয়ন ব্যয় ৫০ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, সরকারের অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনা তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও নিম্নআয়ের মানুষের সুরক্ষা, দ্বিতীয় ধাপে রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আর তৃতীয় ধাপে উদ্ভাবননির্ভর, প্রতিযোগিতামূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন শুধু জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে, কৃষক তার পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং তরুণরা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য সামনে রেখেই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।