28.1 C
Dhaka
মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২৬

শাড়িতে ব্লকের গল্প

জনপ্রিয়
গরমে স্বস্তির ফ্যাশন: ব্লক-বাটিকের নতুন রূপ
কয়েক শতাব্দীর ঐতিহ্য বয়ে চলা ব্লক প্রিন্ট ও বাটিক এখন আর শুধু ঐতিহ্যের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়—সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে আধুনিক ফ্যাশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গরমের দিনে হালকা সুতি পোশাকের চাহিদা যেমন বাড়ে, তেমনি ব্লক ও বাটিক প্রিন্টের পোশাকও হয়ে ওঠে স্বস্তির প্রথম পছন্দ।
ঐতিহ্য থেকে আধুনিকতায়
ব্লক প্রিন্টের শিকড় প্রাচীন চীন-এ, প্রায় চার হাজার বছর আগে। খোদাই করা কাঠের ব্লকে রং লাগিয়ে কাপড়ে ছাপ দেওয়ার মাধ্যমে এই শিল্পের সূচনা। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে ভারত-এ মোগল আমলে এর বিকাশ ঘটে।
বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর এই শিল্পকে জনপ্রিয় করেন কামরুল হাসান। অন্যদিকে বাটিকের উৎপত্তি ধরা হয় ইন্দোনেশিয়া-তে, যা পরে উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর উদ্যোগে শান্তিনিকেতনের মাধ্যমে।
ডিজাইনে নতুনত্ব
আগে যেখানে গাঢ় লাল, হলুদ বা সাদা রঙের প্রাধান্য ছিল, এখন সেখানে প্যাস্টেল, আর্থি টোন এবং মনোক্রোম্যাটিক ডিজাইন জনপ্রিয় হচ্ছে। আধুনিক ডিজাইনাররা মিনিমাল মোটিফ, নতুন কাট এবং ফিউশন স্টাইল ব্যবহার করে ব্লক-বাটিককে তরুণদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছেন।
মেয়েদের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তির পাশাপাশি ছেলেদের শার্ট, ফতুয়া ও পাঞ্জাবিতেও এই কাজ এখন সমান জনপ্রিয়। শুধু সুতি নয়—সিল্ক, তসর, মসলিন, খাদি এমনকি অ্যান্ডি কটনেও এখন বাটিক ও ব্লক প্রিন্ট করা হচ্ছে।
প্রযুক্তির ছোঁয়া
আগে হাতে আঁকা বা সাধারণ সরঞ্জামে বাটিক করা হলেও এখন কাঠের পাশাপাশি স্টিল ব্লক ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে ডিজাইন আরও সূক্ষ্ম ও নিখুঁত হচ্ছে। প্রযুক্তির উন্নয়নে রঙের স্থায়িত্বও বেড়েছে—আগের মতো ধোয়ার পর রং উঠে যাওয়ার সমস্যা অনেকটাই কমেছে।
রঙের বিবর্তন
একসময় প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহারই ছিল প্রধান। পরে রাসায়নিক রঙের ব্যবহার বাড়ে, বিশেষ করে কামরুল হাসান-এর হাত ধরে। তবে প্রাকৃতিক রঙের পুনর্জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রুবি গজনবী, যিনি আশির দশক থেকে ভেজিটেবল ডাই নিয়ে কাজ শুরু করেন।
বর্তমানে দুই ধরনের রংই ব্যবহৃত হচ্ছে—রাসায়নিক ও প্রাকৃতিক (ভেজিটেবল ডাই)। পেঁয়াজের খোসা, হলুদ, সুপারি, এমনকি মাটি বা লোহার জং থেকেও প্রাকৃতিক রং তৈরি করা হয়।
শিবোরি বনাম টাই-ডাই
বর্তমানে শিবোরি বাটিক বেশ জনপ্রিয়। তবে এটি আসলে বাটিক নয়, আলাদা একটি জাপানি টেকনিক—যেখানে সেলাই করে কাপড় টেনে বিশেষ নকশা তৈরি করা হয়। অন্যদিকে টাই-ডাই পদ্ধতিতে কাপড় বেঁধে ডাই করা হয়, যা তুলনামূলক সহজ।
সময়ের সঙ্গে জনপ্রিয়তা
বর্তমানে অনলাইন ও অফলাইন—দুই ক্ষেত্রেই ব্লক-বাটিকের পোশাকের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে গরমের মৌসুমে এসি কটন, ভয়েল বা খাদি কাপড়ের ব্লক-বাটিক পোশাক বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
- Advertisement -spot_img
সর্বশেষ

‘জীবনবান্ধব’ বাজেটের মাধ্যমে নতুন অর্থনীতির ভিত্তি গড়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এটি কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং...