রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটের একটি কক্ষ থেকে ফারাহ ফেরদৌস (৩২) নামে এক নারী চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহে পচন ধরায় ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের পাশাপাশি তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শুক্রবার বিকেলে কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে স্থানীয়রা বিষয়টি শাহবাগ থানায় জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, নিহত ফারাহ ফেরদৌস ৩৯তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) কার্ডিওভাসকুলার বিষয়ে তৃতীয় বর্ষের উচ্চতর প্রশিক্ষণে অধ্যয়নরত ছিলেন।
তার গ্রামের বাড়ি খুলনার ফুলতলা উপজেলায়। তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুর রশীদের বড় মেয়ে। তার ছোট বোন নজুলা ফেরদৌসও একজন চিকিৎসক এবং বিএমইউতে নিউরোসার্জারি বিষয়ে অধ্যয়ন করছেন। তবে দুই বোন একসঙ্গে বসবাস করতেন না।
পুলিশ জানায়, ফারাহর মৃত্যুর খবর পেয়ে নজুলা ফেরদৌস শাহবাগ থানায় যান। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করলে দেখা যায়, ফারাহ খাটের ওপর বসা অবস্থায় টেবিলের ওপর মাথা নুইয়ে রয়েছেন। পরে তার বোন মরদেহটি শনাক্ত করেন।
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) একরামুল হক জানান, ঘটনাস্থলের প্রাথমিক তদন্ত শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ফারাহর সঙ্গে তার ছোট বোনের সর্বশেষ কথা হয়েছিল। এছাড়া তার আগে থেকে গুরুতর কোনো শারীরিক অসুস্থতার তথ্য পরিবার জানাতে পারেনি।
পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই চিকিৎসকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। সেই প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।